১৮ বছরের সংকট সমাধানে সরকারকে ধৈর্য ধরার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর

দীর্ঘ ১৮ বছরের পুঞ্জীভূত সংকট ও অব্যবস্থাপনা মাত্র পাঁচ মাসে সমাধান করা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের মতো দীর্ঘমেয়াদী কাজ সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। তিনি দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতি ধৈর্য ধারণ করার পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আহমেদ আযম খান জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার এক মুহূর্তের জন্যও রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ থেকে বিরত নেই, বরং দেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত ১৮ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। স্বচ্ছ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করে প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া আবারও উন্মুক্ত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকৃত যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
নিপীড়নের শিকার নেতাকর্মীদের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গত দীর্ঘ সময় ধরে হত্যা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বিএনপি নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নেতাকর্মীদের লবিং ও গ্রুপিং পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন। যে কোনো বিষয়ে মতভেদ দেখা দিলে তা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি।
সংগঠনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, দলের স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
