Advertisement

ইতালিতে নৃশংসভাবে নিহত নোয়াখালীর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন

ইতালির রাজধানী রোমে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরেছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকারী একটি ফ্লাইটে তাদের মরদেহ পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত তাদের পৈতৃক নিবাসে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা অরোরা ইসলাম আরিশা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে অয়ন স্বজনদের সঙ্গে মরদেহ গ্রহণ করেন। অয়নের ভাষ্যমতে, হামলায় তিনিও মারাত্মক আহত হয়েছিলেন এবং তার মাথায় ১৬টি সেলাই রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন ইতালির রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

বিজ্ঞাপন

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনদের হারিয়ে স্বজনদের কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে এবং শোকাতুর হাজারো মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় জমান। বাদ মাগরিব স্থানীয় শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তিনজনের মরদেহ দাফন করা হয়।

নিহত কামাল উদ্দিনের পিতা সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শাহাদাত হোসেন নামক এক ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জেরে তার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্ত শাহাদাত এর আগে ইংল্যান্ডেও বিভিন্ন মামলায় জড়িয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার দীর্ঘ এক মাস ১৯ দিন পর মরদেহগুলো দেশে পৌঁছাল।

বিজ্ঞাপন

নিহতদের স্বজনরা জানান, ঘটনার মূল হোতা শাহাদাতকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শোকসন্তপ্ত এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার অতিদ্রুত ঘাতকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%