Advertisement

বেইজিংয়ের সঙ্গে আঁতাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাইওয়ানের চাঙ আন-লোর রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের উদ্যোগ

তাইওয়ানে বেইজিংয়ের স্বার্থরক্ষার অভিযোগ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ‘চায়না ইউনিফিকেশন প্রমোশন পার্টি’ (সিইউপিপি) বিলুপ্তির উদ্যোগ নিয়েছে তাইপে। দ্বীপরাষ্ট্রটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে সাংবিধানিক আদালতে এই রাজনৈতিক দলটিকে নিষিদ্ধ করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলটির বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের নির্দেশে তৃণমূল পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, গুপ্তচরবৃত্তি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা চ্যাং আন-লো, যিনি ‘হোয়াইট উলফ’ নামেও পরিচিত, নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে দাবি করেন। তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এই নেতার মতাদর্শ ব্যাপক জনসমর্থন না পেলেও, তিনি নিরন্তর দ্বীপটির সাথে চীনের ‘পুনর্মিলন’ বা রিইউনিফিকেশনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। চ্যাং দাবি করেন, তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে স্বাধীনতার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়ে অঞ্চলটিকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

তাইওয়ানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সিইউপিপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্তত ১১ জন সদস্যের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন, অনুপ্রবেশ বিরোধী আইন এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধের তদন্ত বা বিচার চলছে। এছাড়াও গত ২০ বছরে দলটির কয়েক ডজন সদস্যের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই দলটি তাইওয়ানের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি।

চ্যাং আন-লো অতীতে কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘ব্যাম্বু ইউনিয়ন’-এর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে দীর্ঘ দশ বছর কারাবন্দিও ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে একজন চীনা জাতীয়তাবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেন। রাজনৈতিক দলটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার এই উদ্যোগকে বেইজিং ‘রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নিন্দা জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বিশ্লেষক পু-চাও হুং-এর মতে, সিইউপিপি-কে বিলুপ্ত করা তাইপের জন্য একটি প্রতীকী বিজয় হতে পারে, তবে এর মাধ্যমে চীনের প্রভাব বিস্তার পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হলেও বেইজিংয়ের অর্থায়ন, স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং প্রভাব বিস্তারের অন্যান্য মাধ্যমগুলো বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বা গোষ্ঠীগুলোর আড়ালে সক্রিয় থাকবে। হংকংয়ের ক্ষেত্রেও বেইজিং একই কৌশলে স্থানীয় রাজনৈতিক এলিটদের ব্যবহারের মাধ্যমে প্রভাব বলয় তৈরি করেছিল।

যদিও চ্যাং আন-লো দাবি করেন যে তিনি সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাচার হওয়া তাইওয়ানি নাগরিকদের উদ্ধারে কাজ করছেন, সমালোচকরা তার এই কর্মকাণ্ডকে কেবল লোক দেখানো মনে করেন। আইনি লড়াই এবং সরকারি চাপের মুখে থাকা এই দলটির ভবিষ্যৎ এখন তাইওয়ানের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%