Advertisement

সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু, নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ মন্ত্রীর

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্সের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের খোঁজখবর নেওয়া এবং নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার সময় মন্ত্রী এ কথা জানান।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি জাহাজ কাটার সময় হঠাৎ ট্যাঙ্কার থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হলে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ট্যাঙ্কারে জমে থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের লিকেজ থেকেই এই বিপত্তি ঘটেছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৬ জন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, একজনের মরদেহ ন্যাশনাল হাসপাতালে এবং দুজনের মরদেহ দুর্ঘটনাস্থলে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা। তদন্তে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা কিংবা নিরাপত্তার ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসের নির্গমন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করে যাচ্ছে।

শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক হংকং কনভেনশনের মানদণ্ড অনুযায়ী শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোকে গ্রিন ইয়ার্ডের সনদ ও গ্রেডিং দেওয়া হয়। ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ঘটনায় কোনো পক্ষকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নিহত প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

0%
0%
0%
0%