সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু ও ১৮ জন নিখোঁজ মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। গত শুক্রবার জাহাজ কাটার কাজ চলাকালীন এই প্রাণহানির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং চারজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া এখনও ১৮ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত পলাশ জলদাশের স্ত্রী ভূমি রানী দাশের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সাগরপাড়ের পরিবেশ। মাত্র নয় মাস আগে সংসার শুরু করা পলাশ অনাগত সন্তানের মুখ দেখার আগেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। নিহতের পরিবারের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তার নূন্যতম সুরক্ষা সরঞ্জাম যেমন মাস্ক, গামবুট কিংবা হেলমেট সরবরাহ করেনি। এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং মালিকপক্ষের চরম অবহেলা ও গাফিলতি বলে দাবি করছেন তারা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, জাহাজটি কাটার আগে যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়নি, যার ফলে ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে অনেক শ্রমিক দৌড়ানোর চেষ্টা করলেও শিপইয়ার্ডের নিরাপত্তারক্ষীরা গেট আটকে রাখে বলে জানা গেছে। এছাড়া জরুরি মুহূর্তে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অক্সিজেন ব্যবস্থাও সেখানে ছিল না।
অভিযোগ রয়েছে, ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করেই নিজেকে ‘গ্রিন শিপইয়ার্ড’ হিসেবে প্রচার চালিয়ে আসছিল। যথাযথ সনদ ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে জাহাজ কাটার কাজ পরিচালনা করে আসছিল। এই প্রক্রিয়ায় বিষাক্ত পার্লাইট পাউডার সাগরে ফেলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটানোরও অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
অকাল প্রয়াত সানি জলদাশ, নাছির উদ্দিন ও আবুল মনছুর আহমদের মতো দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা জীবিকার সন্ধানে এসে মালিকপক্ষের এই নিষ্ঠুরতার বলি হলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এই তথাকথিত গ্রিন শিপইয়ার্ডটি শ্রমিকদের জন্য একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। এ ঘটনায় স্থানীয়রা এবং নিহতের পরিবার দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
