কুমিল্লার বরুড়ায় আখের বাম্পার ফলন ও ভালো দামে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় আখের ভরা মৌসুমে এখন মাঠজুড়ে চলছে ফসল কাটার ধুম। বিগত বছরের তুলনায় ভালো ফলন এবং বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে স্থানীয় কৃষকদের মুখে। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে আখ চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলার শিলমুড়ী উত্তর ও দক্ষিণ, ভবানীপুর, আগানগর, ঝলম ও বরুড়া পৌরসভা এলাকাকে আখ চাষের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৫০ জন কৃষক ১৪৭ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ করেছেন। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের তথ্যমতে, এবারের মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেট্রিক টন আখ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
চাষিদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এক একর জমির এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতক জমিতে আখ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রির সুযোগ থাকায় অন্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে লাভের হার বেশ সন্তোষজনক। বরুড়ায় প্রধানত বিএসআরআই-৪৭, বিএসআরআই-৪৩ ও বিএসআরআই-৪৬ জাতের আখ চাষ করা হয়, যার মধ্যে মিষ্টতা ও স্বাদের জন্য বিএসআরআই-৪৭ জাতটি সর্বাধিক জনপ্রিয়।
আখের বীজ রোপণ থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত দীর্ঘ এক বছর সময় অতিবাহিত হয়। চলতি মৌসুমে বীজ ও সারের দাম বৃদ্ধি পেলেও বাজারে ভালো মানের প্রতি পিস আখ পাইকারি পর্যায়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আখের বাড়তি দামের কারণে পাইকারদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও মানসম্মত পণ্য সংগ্রহের জন্য তারা সরাসরি কৃষকের খেতে ভিড় করছেন।
লগ্মসার এলাকার চাষি লিয়াকত আলী জানান, ৬৪ শতাংশ জমিতে আবাদ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, যেখানে বিক্রয়লব্ধ অর্থের পরিমাণ ৪ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। শাহীন আলম নামক আরেক চাষি জানান, বর্গাজমি ও নিজস্ব জমিতে করা আবাদের ভালো ফলন ও বাজারদর তাকে এবার বড় অংকের লাভের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।
মাঠ থেকে আখ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারের বর্তমান দাম স্থিতিশীল থাকলে আগামী দিনে এ অঞ্চলে আখ চাষি ও আবাদের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
