Advertisement

দিনিপ্রোপেত্রভস্কে ২৬টি বসতি পুনরুদ্ধার ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণে রুশ বাহিনীর বড় ধরনের বিপর্যয়

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সফলতার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী অঞ্চলটির ৭৪৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে। এই সামরিক অভিযানে অন্তত ২৬টি বসতি শত্রুমুক্ত করা হয়েছে এবং প্রায় ১০ হাজার রুশ সেনাকে নিধনের দাবি করেছে কিয়েভ। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’-এর তথ্যানুযায়ী, ইউক্রেনের এই পাল্টা আক্রমণে রুশ বাহিনী দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে এবং দনেৎস্ক ও জাপোরিঝিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত তাদের পিছু হটানো সম্ভব হয়েছে।

ইউক্রেনের সাবেক কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেক্সান্দ্র সিরস্কি, যিনি এই অভিযানের পরিকল্পনা করেছিলেন, বলেছেন, এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানেই অটল থাকে না, বরং পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে নিজের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করার সক্ষমতাও রাখে। তবে এই সামরিক স্বস্তি ছাপিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসায় ইউক্রেনের শহরগুলো এখন রুশ হামলার মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। গত ৮ থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে কিয়েভ, ওদেসা এবং জাপোরিঝিয়া শহরে ড্রোন ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলায় অন্তত নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, রাশিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। দেশটির সামরিক শিল্প কারখানাগুলো এখন প্রতি মাসে ১০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, যা ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত শীতকালে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি করেছিল। নতুন করে আসন্ন শীত মৌসুমকে লক্ষ্য করে রাশিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের উপ-সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ভাদিম স্কিবিটস্কি।

এদিকে, ইউক্রেন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোন উৎপাদন বাড়িয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। জুন ও জুলাই মাসে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ছোট পাল্লার এফপিভি ড্রোনের আঘাতে রুশ বাহিনীর প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়ার বিমান শ্রেষ্ঠত্ব মোকাবিলায় ইউক্রেন আকাশপথেও সাফল্য দেখাচ্ছে; জুলাই মাসে কিয়েভ বাহিনী ৪০ হাজারেরও বেশি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডের গভীরে গিয়ে তেল শোধনাগার ও সামরিক লজিস্টিক সেন্টারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। সবশেষ ১২ আগস্ট নভোরোসিস্ক বন্দরে চালানো অভিযানে রাশিয়ার একাধিক যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুতিন বাহিনীর তেল রপ্তানি আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%