ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্রতর, উত্তপ্ত বাল্টিক অঞ্চল

ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রুশ বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে রাশিয়ার অভ্যন্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের উস্ত-লুগা বন্দরে অবস্থিত একটি বৃহৎ তেল রপ্তানি কেন্দ্রে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে মস্কোর অদূরে একটি গুদামেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের দানিউব নদীতীরবর্তী ইজমাইল বন্দরের একটি রেলওয়ে স্টেশন ব্যবহার করে কিয়েভ সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি পরিবহন করছিল, যা ধ্বংস করতেই রুশ বাহিনী সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছে। এছাড়া মিকোলাইভ উপকূলীয় এলাকায় অস্ত্রবাহী জাহাজকে এসকর্ট করার অভিযোগে দুটি টাগবোট ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। এর আগে ইজমাইলের বন্দর অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লক্ষ্য করেও রাশিয়ার ব্যাপক গোলাবর্ষণ অব্যাহত ছিল, যা অঞ্চলটির সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
উস্ত-লুগা এলাকায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে লেনিনগ্রাদের আঞ্চলিক গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সেন্ট পিটার্সবার্গের আশেপাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ৫০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এই ড্রোন তৎপরতার কারণে নিরাপত্তার খাতিরে মস্কোর সব বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে আকাশপথের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে রাশিয়ার ফেডারেল এয়ার ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি রোসাভিয়েৎসিয়া।
মস্কোর অদূরে তিভার অঞ্চলে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান উইল্ডবেরিসের একটি গুদামে ড্রোন ধ্বংসাবশেষ পড়ায় স্থাপনাটির দেয়ালে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত এক মাসে এই প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায় ২০ বারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে কিয়েভ ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার জ্বালানি শোধনাগার, বন্দর ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে, যার ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে, ইউক্রেনীয় ড্রোন তৎপরতার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পার্শ্ববর্তী বল্টিক অঞ্চল। লাটভিয়ার সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোনকে যুদ্ধবিমান দিয়ে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ফিনল্যান্ড সতর্কতাস্বরূপ বল্টিক সাগরের কিছু অংশে নৌচলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। চলমান এই সংঘাত এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সরবরাহ চেইনকেও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
