রাশিয়া ও ইউক্রেনে পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিহত ৩

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার ঘটনায় উভয় দেশে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী খেরসন এবং রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিয়েস্কে এসব ভয়াবহ হামলায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দুই দেশেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নভোরোসিয়েস্কের মেয়র আন্দ্রে ক্রাভচেঙ্কো জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় শহরটি এক বিভীষিকাময় রাতের সাক্ষী হয়েছে। এই হামলায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অপর এক শিশুসহ একজন নারী আহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিমিত্রা হোল্ডিংয়ের মালিকানাধীন নভোরোসিয়েস্কের শস্য টার্মিনালটিও হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ক্রাসনোদর অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, সামগ্রিক এই হামলায় ওই অঞ্চলে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ নিশ্চিত করেছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর ৫০০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করেছে।
ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার শাহেদ ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত এবং একজন প্রবীণ নারীসহ অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। ওই অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেকসান্দর প্রোকুদিন জানান, হামলার ফলে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের ১ হাজার ২০০ গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ইউক্রেনের প্রধান বন্দরনগরী ওডেসাতেও রুশ হামলায় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ওডেসার একটি জ্বালানি ডিপোতে আঘাত হেনেছে, যা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হতো।
গত ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত চলমান রয়েছে। বর্তমানে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিক হাবগুলো। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি টানার লক্ষ্যে কিয়েভ একটি প্রস্তাবনা মার্কিন আলোচনার টেবিলে উত্থাপন করেছে। যদিও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের প্রেক্ষিতে কিয়েভ নভোরোসিয়েস্ক বন্দরে রাশিয়ার তেল ট্যাংকারগুলোর ওপর ড্রোন হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
যুদ্ধ অবসানের জন্য ইউক্রেন বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, রাশিয়া আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিলেও তাদের শর্ত অনুযায়ী কিয়েভকে মস্কোর দাবি করা চারটি অঞ্চলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হবে এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো নিরসন করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক যুদ্ধের কারণে বর্তমানে ইউক্রেন সংকট নিরসনের আলোচনা অনেকাংশেই স্থবির হয়ে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
