ইউক্রেনের শিশু হাসপাতালে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিহত ছয়

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার ভোরে সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। কিয়েভের একটি শিশু হাসপাতালসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, সেখানে রাশিয়া একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ থেকে বোমা বর্ষণের মাধ্যমে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এই ভয়াবহ হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। হামলায় অনেক ভবন ও যানবাহন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিয়েভের শেভচেনকিভস্কি জেলায় অবস্থিত একটি শিশু হাসপাতালে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এছাড়া শহরের একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে কিয়েভে অন্তত একজন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে মাইকোলাইভ শহরে ড্রোন হামলায় ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তাদের এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প কারখানা এবং পরিবহন ও লজিস্টিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা। প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের তীব্র সংকট ইউক্রেনের জন্য এই মুহূর্তে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাল্টা আক্রমণ হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার ভরোনেঝ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার গুসেভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেখানে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। ড্রোন থেকে পতিত ধ্বংসাবশেষের কারণে গুদামঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী ভরোনেঝ ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে ১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও এই সংঘাতের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
