বান্দরবানে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বাণিজ্য: অতিষ্ঠ বন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উসমান গণি নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। লামা পৌরসভা এলাকার নয়াপাড়ার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ছেলে উসমান গণির এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে বন বিভাগ ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন এবং অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার ফাঁদ পাতছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বাবলু জানান, উসমান গণি তিন দফায় তার কাছ থেকে মোট ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। টাকা গ্রহণের সময় তিনি দুবার লিখিত অঙ্গীকারনামা দিলেও পরবর্তীতে পুনরায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেছেন। অপর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বেচু উসমান গণিকে একজন ‘বনদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান, বন বিভাগের কাজে বাধা এবং গাছ চুরির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দায়ের করছেন।
আইনি নথি অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই বান্দরবান চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন উসমান গণি। এর আগে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর একই ব্যক্তি গাছ ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বেচু, আব্দুল জলিল ও দেলোয়ারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। তবে সেই মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় এবং অভিযোগের সত্যতা না মেলায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন।
এদিকে লামা রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দিন জানান, কর্মস্থলে যোগদানের মাত্র দুই দিনের মাথায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা করা হয়েছে, অথচ বাদীকে তিনি চিনতেনই না। লামা তৈন রেঞ্জের কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম জানান, বন আইনে মামলা হওয়ার প্রতিশোধ নিতে এবং বনদস্যু চক্রের ইন্ধনে ওসমান গনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনার ফলে বন বিভাগ দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং জনবল সংকটের মধ্যে কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উসমান গণি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে বলেই তিনি পাল্টা মামলা করেছেন। তবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। এদিকে, এ ধরনের অনৈতিক ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয়রা এবং ভুক্তভোগী বন কর্মকর্তারা অভিযুক্তের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
