মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পথে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন

বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বিচারিক সংস্কারের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার দেশটির ১২৮ সদস্যের পার্লামেন্টে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক আইনপ্রণেতার সমর্থনে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এখন থেকে সর্বোচ্চ সাজার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কঠোর পরিশ্রমের বিধান কার্যকর হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই লেবানন কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ মেনে আসছিল, যা ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর ছিল। তবে আইনের প্রয়োগ না থাকলেও দেশটির আদালতগুলো নিয়মিতভাবেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে আসছিল। লেবাননের কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ অন্তত ৮৫ জন কারাবন্দি মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে দিনাতিপাত করছিলেন, যাদের ক্ষেত্রে এখন নতুন এই আইন প্রযোজ্য হবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দেশ আইনগতভাবে বা কার্যকরের দিক থেকে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করেছে। যেসব দেশ গত দশ বছরে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি, তাদের এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে কিছু দেশ শুধুমাত্র সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করলেও সামরিক আইন বা বিশেষ পরিস্থিতির অপরাধের ক্ষেত্রে এই বিধান এখনো বহাল রেখেছে।
বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এই মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অন্তত ২,৭০৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১,৫১৮ জনের তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি। অ্যামনেস্টির ভাষ্যমতে, মূলত ইরানের মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধিই এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ। ইরানে আগের বছরের ৯৭২ জনের তুলনায় ২০২৫ সালে অন্তত ২,১৫৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা সংখ্যাটিকে দ্বিগুণেরও বেশিতে নিয়ে গেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যভাণ্ডারে অবশ্য চীনের মতো দেশের হাজার হাজার মৃত্যুদণ্ডের পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ১৭টি দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার নজির পাওয়া গেছে, যা ২০১৮ সাল থেকে চলা ঐতিহাসিক নিম্নহারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। লেবাননের এই সাহসী পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের মানবাধিকার রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
