AdvertisementAdvertisement

ইউরোপীয় জাহাজ বাজেয়াপ্তের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন পুতিন

ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার পণ্যবাহী কোনো জাহাজ জব্দ করলে মস্কোও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার প্রশান্ত মহাসাগরের সাখালিন দ্বীপের অদূরে রাশিয়ার নৌবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনকালে তিনি এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষায় যেখানেই প্রয়োজন এবং উপযুক্ত মনে হবে, সেখানেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক কিছু নিষেধাজ্ঞার জেরে মস্কোর তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের বেশ কিছু জাহাজ ইউরোপীয় দেশগুলোর নজরদারির কবলে পড়ার পর পুতিনের এই প্রতিক্রিয়া এল। গত মাসে পাস হওয়া নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো জব্দকৃত জাহাজ থেকে তেল বা অন্য কোনো পণ্য বিক্রি করার আইনি ক্ষমতা অর্জন করেছে। পুতিন এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘জলদস্যুতা ও লুণ্ঠন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, রুশ অর্থনৈতিক অপারেটরদের জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হলে রাশিয়া বসে থাকবে না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পুতিন জানান, ইতিমধ্যে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরকে এই বিষয়ে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহকে বিঘ্নিত করছে। রাশিয়ার নৌবাহিনীর এই মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর এক সপ্তাহ আগে অবস্থান করছে।

এর পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ন্যাটো জোটের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অনুপ্রবেশের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেন যে, নতুন সামরিক-রাজনৈতিক ব্লক গঠনের মাধ্যমে ন্যাটো এ অঞ্চলে রাশিয়ার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন মারণাস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া সুদূর আর্কটিক অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, মস্কো কিয়েভের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা কেবল ইউক্রেন নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ইতিমধ্যে পুতিনের চার বছরব্যাপী সামরিক অভিযানে হাজার হাজার সেনা ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%