রাশিয়ার নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা পেল ইউক্রেন যুদ্ধবিরোধী একমাত্র দল ইয়াবলোকো

রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় সংসদীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে একমাত্র যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দল ‘ইয়াবলোকো’-কে নিষিদ্ধ করেছে। সোমবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক ভিয়াচেস্লাভ কিরিলভ একটি মামলার রায়ে দলটির নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ দেন। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতাকারী রুশ ভোটাররা তাদের মত প্রকাশের একটি বড় সুযোগ হারালেন।
ক্রেমনপন্থী জাতীয়তাবাদী দল ‘রোদিনা’র করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত এই রায় দিয়েছে। রোদিনার দাবি ছিল, ইয়াবলোকো কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই বিদেশি উৎস, বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলো থেকে নির্বাচনী সহায়তা গ্রহণ করেছে। তবে ইয়াবলোকো নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শুনানি চলাকালে ইয়াবলোকোর নেতা নিকোলাই রিবাকভ এই মামলাকে সংবিধানবিরোধী বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নির্বাচনী মাঠ থেকে তাদের সরাতে এই পরিকল্পিত আক্রমণ চালাচ্ছে। রায়ের পর আদালতের বাইরে সমবেত হওয়া শতাধিক কর্মী ‘লজ্জা! লজ্জা!’ স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রতিবাদী এসব কর্মীর অনেকের হাতেই আপেল দেখা যায়, যা দলটির নামের প্রতীকী অর্থ বহন করে।
নিকোলাই রিবাকভ জানিয়েছেন, দলটির পক্ষ থেকে আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তিনি বলেন, শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং প্রাণহানি রোধ করাই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য। উল্লেখ্য, বর্তমান রুশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটিতে ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধী কণ্ঠস্বরগুলোকে হয় কারারুদ্ধ অথবা নির্বাসিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়াবলোকোই একমাত্র উদারপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে ছিল।
উল্লেখ্য, ইয়াবলোকো দলটিকে রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির বিধবা স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া সমর্থন জুগিয়ে আসছেন। নাভালনি ও ইউলিয়া উভয়কেই রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নথিতে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০০৩ সালের পর থেকে রাশিয়ার পার্লামেন্ট বা স্টেট ডুমায় ইয়াবলোকো কোনো আসন জিততে পারেনি। বর্তমানে পুতিনসমর্থিত ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ দলের একচ্ছত্র আধিপত্যের কবলে পড়েছে রাশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থা।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ রুশ নাগরিকই ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন তার ভূখণ্ডগত কঠোর অবস্থানে অটল রয়েছেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনা নাকচ করে দিয়েছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে যুদ্ধবিরোধী মত প্রকাশের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
