AdvertisementAdvertisement

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা পরিষদের নেতৃত্বে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজায়ি। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের এমন এক সন্ধিক্ষণে এই নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করেছেন এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তাকে নিজ প্রতিনিধি হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছেন।

৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজায়ি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তার নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা দেশটিতে ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’ হিসেবে পরিচিত। এই পর্ষদের বিদায়ী সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলগাথরকে সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মার্চ মাসে এক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় পর্ষদটির সাবেক প্রভাবশালী সদস্য আলি লারিজানির নিহতের পর থেকেই পদটি আলোচনায় ছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে মোহসেন রেজায়ি সবসময়ই জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন। তার মতে, বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি মূল্যবান। চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় তেহরান এই প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে অভিজ্ঞ এই সামরিক ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্তি ইরানের নিরাপত্তা নীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোহসেন রেজায়ির এই নিয়োগের দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। একপক্ষের মতে, এটি ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের কঠোর বার্তা—অর্থাৎ সামরিক চাপ বাড়লে ইরানও কঠোরতর অবস্থানে যাবে। অন্যদিকে, অনেকের মতে, তার শক্তিশালী সামরিক পরিচয় তাকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার সুযোগ করে দেবে। যেকোনো আপস বা আলোচনার ক্ষেত্রে সামরিক পটভূমির কোনো নেতার সমর্থন থাকলে তা রক্ষণশীলদের কাছ থেকে বাধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক আব্বাস আসলানি জানান, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধনে রেজায়ির মতো একজন ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল। তিনি একদিকে যেমন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের নমনীয় ধারার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম, তেমনি আইআরজিসির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক তাকে রক্ষণশীল মহলে গ্রহণযোগ্যতা দেয়। সব মিলিয়ে, মোহসেন রেজায়ির এই দায়িত্ব গ্রহণ ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবকে আরও সুসংহত করবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%