AdvertisementAdvertisement

শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর গাজায় হামলা কমার আভাস সত্ত্বেও বাড়ছে বসতি স্থাপন ও অস্থিরতা

গাজায় সংঘাতের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রবিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানান, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না। একই দিনে হামাস অবশ্য তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা ছাড়া তারা কোনো শান্তি চুক্তিতে যাবে না।

শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী নিকোলাই ম্লাদেনভ জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো এলাকা অস্ত্রশস্ত্রমুক্ত ঘোষিত হলে সেখানে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাহিনীর কাছে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা কমেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জুলাই মাসের শেষভাগে ৪৭ জন নিহত হওয়ার পর, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই সংখ্যা কমে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে এই আপাত শান্ত পরিস্থিতির আড়ালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রাফাহর পূর্বাঞ্চলে নতুন করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে, যা নিয়ে অঞ্চলটির স্থায়ী বিভাজনের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবিক সংকট এখনো চরমে। গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩,৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৪,২৫০ জন আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে গাজার আবু শারিয়া ও আল-হাসায়না পরিবারের ১১২ জন সদস্যের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা ছিল যুদ্ধের অন্যতম বড় একটি গণসমাহিত অনুষ্ঠান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, এখনো অন্তত ৮ হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, আর জাতিসংঘ জানিয়েছে গাজার ৮২ শতাংশ ভবনই বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসপ্রাপ্ত।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি কালান্দিয়া শরণার্থী শিবির এবং কাফর আকাব এলাকায় কয়েক দিনব্যাপী এক অভিযানে ইসরায়েলি সৈন্যরা ঘরবাড়ি দখল, সাংবাদিকদের নির্যাতন এবং বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ২৫,৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি জেনিন এলাকায় এক কিশোরকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াফা নিশ্চিত করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দৌরাত্ম্য ও অবৈধ বসতি স্থাপনের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত জুলাই মাসে ফিলিস্তিনিদের ওপর ২,২৫৬টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন। এর মধ্যে ১,৪৫৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী এবং ৭৯৮টি বসতি স্থাপনকারীরা। রামাল্লা, নাবলুস ও জেনিন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বৃহস্পতিবার এক বসতি স্থাপনকারীকে অভিযুক্ত করা হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তদন্তের পর কোনো আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই মামলাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%