AdvertisementAdvertisement

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দি ইয়াহাব দিয়াবের মৃত্যুতে নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

গাজা থেকে আটক ফিলিস্তিনি বন্দি ইহাব মোহাম্মদ আবদেল কাদের দিয়াবের মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ফিলিস্তিনি বন্দি ও প্রাক্তণ বন্দি বিষয়ক কমিশনের তথ্যমতে, ৩৬ বছর বয়সী ইহাব কারাগারে থাকাকালীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ইসরায়েলি কারাগার কর্তৃপক্ষ রবিবার কমিশনের কাছে এই মর্মান্তিক খবরের সত্যতা স্বীকার করলেও, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা একে ইসরায়েলি বাহিনীর অমানবিক কর্মকাণ্ড গোপন করার একটি পরিকল্পিত নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ইহাবকে আটক করা হয়েছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ নয় মাস বন্দিদশায় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইহাবের মৃত্যুর কারণ হিসেবে তার পূর্বের কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতাকে দায়ী করার চেষ্টা করলেও, তার পরিবার এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আটকের সময় ইহাব শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং তার কোনো ধরনের জটিল রোগ ছিল না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হেফাজতে ৩২৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গাজা থেকে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা ৫৩ জন। গাজার বন্দি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ধরনের মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলি সরকার ও কারাকর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছে। বিবৃতিতে নির্যাতন, অবহেলা এবং নিষ্ঠুর বন্দিশালার পরিবেশের কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়টি অবিলম্বে ইহাবের মৃতদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং তার মৃত্যুর ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলি কারাগারে আটক গাজার বন্দিদের প্রকৃত সংখ্যা ও তাদের ভাগ্য সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘হামোকেদ’-এর তথ্যমতে, আগস্ট মাস পর্যন্ত ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ৮ হাজার বন্দি আটক ছিলেন, যাদের মধ্যে ৩ হাজার ১৯৮ জনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই গোপন প্রমাণের ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি রাখা হয়েছে। এই হিসাবের বাইরেও গাজা থেকে আটক হাজারো ফিলিস্তিনিকে ‘বেআইনি যোদ্ধা’ হিসেবে আলাদা শ্রেণিতে আটকে রেখেছে ইসরায়েল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%