চার বছর কারাবাসের পর মুক্তি পেলেন মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যান

চার বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য রবার্ট গিলম্যান। রাশিয়ায় বন্দি থাকা এই মার্কিনিকে কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই মানবিক বিবেচনায় মুক্তি দিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গিলম্যানকে বহনকারী বিমানটি ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে অ্যান্ড্রুস বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক কোনো বন্দি বিনিময় ছাড়াই গিলম্যানের মুক্তিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। গিলম্যানের মুক্তি নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত অ্যাডাম বোহলার, স্টিভ উইটকফ, সেবাস্তিয়ান গোর্কা এবং জ্যারেড কুশনারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল কাজ করেছে। দেশে ফেরার পর তাকে টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে অবস্থিত একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।
গত ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে রাশিয়ার ভরোনেজ শহরে ট্রেনে ভ্রমণের সময় রবার্ট গিলম্যানকে আটক করা হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গিলম্যানের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অসুস্থতার কারণে ভুলবশত ওই পুলিশ সদস্যের পায়ে ধাক্কা লেগেছিল এবং ঘটনার পর অভিযোগকারী পুলিশ কর্মকর্তা কোনো সাক্ষ্যও দেননি। তবুও বিভিন্ন সময় কারা অভ্যন্তরে নতুন করে অভিযোগ সাজিয়ে তার সাজা বাড়ানো হয়।
গিলম্যানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সিনেটর এড মার্কি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাকে শারীরিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর তার অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন, এমনকি তিনি দীর্ঘ সময় সাড়া দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। মুক্তি পাওয়ার পর বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি গিলম্যানকে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। এই মুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ চার বছর পর পরিবারের কাছে ফিরছেন ৩২ বছর বয়সী এই সাবেক নৌসেনা। তাকে নিয়ে আসার জন্য তার মা নিনা গিলম্যানও একই বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন। রাশিয়ার কারাগারে বন্দি থাকা অন্তত ১০ জন মার্কিনিদের মধ্যে গিলম্যান একজন ছিলেন, যার মুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
