পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটে ইউক্রেন রাশিয়ার হামলায় বিপর্যস্ত ইজমাইল বন্দর

ইউক্রেনের ওদেসা অঞ্চলের ইজমাইল বন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। রোমানিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত দানিউব নদীতীরের এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি সেবাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দিনভর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগের দিনই কিয়েভ রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দরে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল, যার জেরেই এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, চলমান শীতকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র ৫ শতাংশ প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে হয়, তবে এই সাহায্যের পরিমাণ ১০ শতাংশে উন্নীত করা জরুরি। বর্তমানে ইউক্রেনের হাতে থাকা ইন্টারসেপ্টরের পরিমাণ মোট মজুদের মাত্র ১ শতাংশ।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার পর ইউক্রেনে অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ায় কিয়েভের আকাশসীমা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে তাদের হাতে আড়াই গুণ কম ইন্টারসেপ্টর রয়েছে, অথচ রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হার অতীতের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনগুলোর তুলনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অনেক বেশি দ্রুতগতির এবং এগুলোর গতিপথ শনাক্ত করা অত্যন্ত জটিল। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী বুধবার ঘোষণা করেছে যে, রাশিয়ার নিক্ষিপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঠিক সংখ্যা তারা আর প্রকাশ করবে না। গত মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর প্রায় ৪৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যার মধ্যে প্রায় ২০০টিই ছিল ব্যালিস্টিক প্রকৃতির। মার্কিন প্রশাসনের কাছে সহায়তার আবেদন জানালেও এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ইতিবাচক সাড়া পায়নি কিয়েভ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
