সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু ও সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড অ্যান্ড রিসাইক্লিং কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতর বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে নয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে জাহাজ কাটার কাজ চলাকালীন এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, স্ক্র্যাপ জাহাজটির ভেতর কাজ করার সময় হঠাৎ গ্যাস লিক হয়ে বিষক্রিয়া শুরু হয়। এতে কয়েকজন শ্রমিক তাৎক্ষণিক জ্ঞান হারান এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। উদ্ধারকাজের সময় গ্যাসের তীব্রতা এতোটাই বেশি ছিল যে, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলামের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, জাহাজটি এলএনজি পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। জাহাজের ট্যাংকগুলো যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কাজ শুরু করায় এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। কারখানায় শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নিহতদের মধ্যে সানি জলদাস, পলাশ জলদাস, মনসুর আলী ও নাসির উদ্দিনের পরিচয় পাওয়া গেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী কারখানায় ভাঙচুর চালান, তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার পরপরই কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিনকে কারখানার বাইরে পাওয়া গেলেও ঘটনার বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
পুরো এলাকায় বিষাক্ত গ্যাসের আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, ঘটনার দায়ীদের শনাক্ত করতে প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ও নিহতের স্বজনরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
