স্পেনের সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী ঢল ইউরোপীয় সীমান্ত সুরক্ষায় জরুরি বৈঠকের ডাক

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান অঞ্চল সিউতায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর আকস্মিক অনুপ্রবেশের ঘটনায় ইউরোপজুড়ে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত ২২টি দেশ সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে একটি যৌথ চিঠি দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি ভিডিও কনফারেন্স আহ্বানের কথা জানিয়েছে আয়ারল্যান্ড।
সিউতার শীর্ষ কর্মকর্তা হুয়ান হেসুস ভিভাসের তথ্য অনুযায়ী, ৮৪ হাজার মানুষের এই ছোট্ট ভূখণ্ডটিতে গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বহু অভিবাসী মরক্কো থেকে সমুদ্রপথে সাঁতরে এবং কাঁটাতার ভেদ করে এই ছিটমহলে ঢুকে পড়ে। এই বিপজ্জনক যাত্রাপথে অন্তত ৭২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যা অঞ্চলটির ইতিহাসে বৃহত্তম অভিবাসন সংকট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রায় সবাইকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, কোনো ধরনের গোয়েন্দা তথ্য ছাড়াই এই ঘটনা ঘটেছে এবং মরক্কো স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়, বরং একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তবে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় পিপলস পার্টির নেতা ম্যানফ্রেড ওয়েবার সীমান্ত সুরক্ষায় ইউরোপীয় সীমান্ত ও কোস্ট গার্ড সংস্থা ফ্রন্টেক্সের হাতে আরও কার্যকর আইনি ক্ষমতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করছেন।
বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, মরক্কো এই অভিবাসন প্রবাহকে স্পেনের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। সিউটা ও মেলিলা অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের দাবি থেকে মরক্কো সরকার এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো জোর দিয়ে বলেছে, অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যেন মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
