জার্মানিতে সামরিক বাহিনীতে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে ধীরগতি ও তরুণ প্রজন্মের অনাগ্রহে বাড়ছে উদ্বেগ

জার্মানির সামরিক বাহিনীতে জনবল সংকটের মুখে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের যে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা বেশ ধীরগতির। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০০ জন নতুন নিয়োগ পাওয়া গেছে, যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুবই নগণ্য। রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের প্রেক্ষাপটে জার্মানি তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক অনাগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জার্মানির বিলফেল্ড শহরের ১৮ বছর বয়সী সংগীতশিল্পী রাইহান বাট সেনাবাহিনীর মার্চিং ব্যান্ডে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাইহানের মতো গুটিকতক তরুণ সেনা বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী হলেও দেশের তরুণদের একটি বড় অংশই এই সামরিকায়নের বিরোধিতা করছে। সামরিক বাহিনীতে ব্যক্তিগত দক্ষতা ও শৃঙ্খলার চর্চা করার সুযোগ দেখছেন রাইহান, তবে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে অস্ত্র তুলে নিতেও তার দ্বিধা নেই বলে জানিয়েছেন।
সরকারের নতুন সামরিক আধুনিকায়ন আইন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে ৩ লাখ তরুণের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুন্দেসভেয়ার বা জার্মান সশস্ত্র বাহিনী তাদের সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ২ লাখ রিজার্ভ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। কিন্তু তরুণদের মধ্যে এই আহ্বানে সাড়া দেওয়ার বদলে সেনাবাহিনী এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
চলতি বছরের ১৪ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬ হাজার তরুণ ধর্মীয় ও নৈতিক কারণ দেখিয়ে সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বোখাম শহরের কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী বেলা ব্রাইটনারসহ একদল তরুণ ‘সামরিকীকরণ’-এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন। তাদের মতে, শিক্ষাখাতে অর্থায়ন ও তরুণদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে সরকার সামরিক বাহিনীর দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশার পরিপন্থী।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মরিৎজ গ্রাফরাথ মনে করেন, এই সামরিক সম্প্রসারণ মূলত নেটো এবং ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি প্রমাণের একটি কৌশল। তবে এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে জার্মানির ভেতর গভীর বিভাজন রয়েছে। যদি বর্তমান স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসে, তবে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জার্মানিকে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনপ্রবর্তনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নীতিনির্ধারকরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা