ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় বিপন্ন সেবাস্টিয়া, দখলদারিত্ব নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

দখলকৃত পশ্চিম তীরের ঐতিহাসিক এলাকা সেবাস্টিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। একই সঙ্গে তিন হাজার বছরের প্রাচীন এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটিকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান ভূমি দখল এবং বসতি সম্প্রসারণের হাত থেকে এই অনন্য সভ্যতাকে রক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইউনেস্কোর এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেবাস্টিয়ার ডেপুটি মেয়র নিজার কায়েদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক নজরদারি প্রাচীন এই শহরটিকে রক্ষা করতে সহায়ক হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর ভূমি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত কেবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই নয়, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকাকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বস্তুত, এটি ইসরায়েলের পরিকল্পিত বসতি সম্প্রসারণের একটি অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাচীন রোমান আমলের স্থাপত্য, স্তম্ভ এবং অ্যাম্ফিথিয়েটারে ঘেরা সেবাস্টিয়া প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। নব্বইয়ের দশকের অসলো শান্তি চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ এই অঞ্চলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখলেও, ইসরায়েলের নতুন একটি আইন পাসের প্রক্রিয়া এখন সেই ক্ষমতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইন পাস হলে পশ্চিম তীরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর ওপর ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণ সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং ইসরায়েলি হস্তক্ষেপ বাড়বে।
ফিলিস্তিনের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রী হানি আল-হায়েক জানান, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সেবাস্টিয়াকে এমন এক অনন্য স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যা কানানি, ইসরায়েলি, আসিরীয়, পারস্য, গ্রিক, রোমান, বাইজেন্টাইন এবং ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসের ধারক। খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র হযরত ইয়াহিয়া (আ.) বা জন দ্য ব্যাপটিস্টের সমাধিস্থল হিসেবেও জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কারণে ঐতিহাসিক চরিত্র নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কারণেই একে বিপন্ন তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির পরও সেবাস্টিয়ার ওপর থেকে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অতীতে হেবরনের পুরাতন শহর এবং আল-ইব্রাহিমি মসজিদের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নির্দেশনাকে যেভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে, সেবাস্টিয়ার ক্ষেত্রেও ইসরায়েলি সরকারের একই মনোভাব বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েই গেছে। আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সংস্থাসমূহের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে দখলদারিত্ব বজায় রাখার ইসরায়েলি প্রবণতাই এখন এই বিশ্ব ঐতিহ্যের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা