কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি জয়

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী ও কর্মী মোহসেন মাহদাওয়িকে অভিবাসন আটকাদেশ থেকে মুক্তি দেওয়ার নিম্ন আদালতের নির্দেশ বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত। ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিতাড়িত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় আইনি জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার আপিল আদালত মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ জেফ্রি ক্রফোর্ডের আগের একটি রায় উল্টে দেন। জজ ক্রফোর্ড তার রায়ে উল্লেখ করেছিলেন যে, মোহসেন মাহদাওয়ি মার্কিন নাগরিকদের মতোই বাকস্বাধীনতা ভোগ করেন এবং কোনো অপরাধ না করেও প্রশাসনের এই পদক্ষেপে তিনি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই মাহদাওয়িকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

আইনি লড়াই চলাকালীন মাহদাওয়ি বর্তমানে কারাবন্দী নন। তবে এর আগে গত মে মাসে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস তার বহিষ্কারের প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে অভিবাসন বিচারক নিনা ফ্রোস সরকারি আইনজীবীদের উপস্থাপিত প্রমাণগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে রায় দিয়েছিলেন এবং মাহদাওয়িকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন বিচারক ফ্রোসকে বরখাস্ত করে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে জন্মগ্রহণকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা মোহসেন মাহদাওয়িকে গত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আটক করা হয়। তিনি যখন তার নাগরিকত্ব আবেদনের সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন, তখনই তাকে কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতার করা হয়। আটকের পর দুই সপ্তাহ তাকে কারাভোগ করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাহদাওয়ি অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন তার রাজনৈতিক মতাদর্শকে দমন করার জন্য অভিবাসন ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, একজন ফিলিস্তিনি শরণার্থী হিসেবে মানবিক মর্যাদা এবং সমঅধিকারের পক্ষে শান্তিপূর্ণ কথা বলায় সরকার তাকে শাস্তি দিতে চাইছে। তবে তিনি ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা রেখে নিজের অবস্থানের পক্ষে অবিচল রয়েছেন।

ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে মাহদাওয়ির এই মামলাটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ফেডারেল অভিবাসন আইনের অধীনে সেইসব অ-নাগরিককে বহিষ্কারের পূর্ণ অধিকার রয়েছে, যাদের উপস্থিতি দেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, মানবাধিকার আইনজীবীদের মতে, এটি সংবিধানস্বীকৃত বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রতিশোধমূলক আঘাত।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%