বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল করেছেন সুবিধাবঞ্চিত একদল নারী-পুরুষ। দুপুর ১২টার দিকে হাতে ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে নানা স্লোগান দেন এবং সাবেক জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভের সময় খায়রুল আলম সুমন কার্যালয়ের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে তিনি দ্রুত সেখান থেকে তড়িঘড়ি করে প্রস্থান করেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, কীর্তনখোলা নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার জন্য বারবার জেলা প্রশাসকের কাছে ধর্না দিলেও তারা কোনো সহযোগিতা পাননি, উল্টো তাদের চরম অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা সাবেক জেলা প্রশাসকের অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র দেখানোর নামে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ খরচেও বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক জেলা প্রশাসকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং কোনো আদালতের রায় বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. খায়রুল আলম সুমনকে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বদলি করে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর আগে অভিযোগ-সংক্রান্ত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%