চৌদ্দগ্রামে নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই হলো না ৯৫ বছর বয়সী মায়ের

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে ৯৫ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনকে তাঁর ছেলের নতুন বিলাসবহুল ভবন থেকে বের করে দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করা এই বৃদ্ধার স্বামী আব্দুল হক ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন মেয়ে ও এক ছেলের জননী ছামেনা খাতুনকে একপর্যায়ে চরম অবহেলার শিকার হতে হয়। তাঁর একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটালেও দেশে ফেরার পর মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন।
জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে ছামেনা খাতুনকে তাঁর মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। মেয়ের অভাবী সংসারে দিনমজুর নাতিদের উপার্জনে কোনো রকমে বেঁচে থাকলেও ছেলের বাড়িতে জায়গা হয়নি তাঁর। সম্প্রতি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফয়েজ আহমেদ দেশে ফিরে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে মাকে নিজের নতুন বাড়িতে নিয়ে এলেও তা স্থায়ী হয়নি। গত ৪ মে ছেলে পুনরায় সৌদি আরবে পাড়ি জমালে তাঁর স্ত্রী রুমা বেগম গভীর রাতে বৃদ্ধা শাশুড়িকে ঘর থেকে বের করে দেন। বর্তমানে বাধ্য হয়ে ছামেনা খাতুন আবারও তাঁর মেয়ের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নির্যাতিতা ছামেনা খাতুন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ছেলে ও পুত্রবধূ তাঁর কোনো খোঁজখবর রাখেন না, এমনকি শারীরিক ও মানসিকভাবেও তাঁকে নিগৃহীত করা হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বৃদ্ধার এমন করুণ পরিণতিতে স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি উঠেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের আবাসন ও ভরণপোষণের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহায়তায় অতি দ্রুত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এই বৃদ্ধার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিতে তারেক রহমান যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, সেই আলোকে অসহায় প্রবীণদের সুরক্ষা দিতে স্থানীয় প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।