টানা তিন প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী অর্থনীতিতে উদ্বেগের ছাপ

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে মন্দার সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যমতে, বিদায়ী অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ২ দশমিক ২২ শতাংশে, যা আগের দুই প্রান্তিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম।
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে দাঁড়ায়। ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধির এই নিম্নমুখী প্রবণতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচ্য সময়ে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরাজমান অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
শিল্প খাতে বিপর্যয়ের চিত্রটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শিল্প খাতে মাইনাস দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যার অর্থ হলো উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া কৃষি খাতে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধস থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে।
বিবিএসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ভেতরে স্থির মূল্যে ৯ লাখ ৮ হাজার ৫৪১ কোটি টাকার মূল্য সংযোজন হয়েছে, যেখানে এর আগের প্রান্তিকে এই অংক ছিল ৯ লাখ ৪০৩ কোটি টাকা। বছরের প্রথম প্রান্তিক তথা জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১০ কোটি টাকা।
বিদায়ী অর্থবছরের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিবিএসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, পুরো অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। চূড়ান্ত পণ্য ও সেবা উৎপাদনের এই মন্থর গতি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।