ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের সমর্থন আদায়ে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট আউন

লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর চলমান সংঘাত নিরসন এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের লক্ষ্যে মার্কিন সমর্থন আদায়ে ওয়াশিংটন সফর শুরু করেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। প্রেসিডেন্ট আউনের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল, কারণ ২০০৯ সালের পর এই প্রথম লেবাননের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন।
রবিবার রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আউন জোর দিয়ে বলেন, গত ২৬ জুন লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত মার্কিন-সমর্থিত চুক্তি বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন ও বৈরুতের সমন্বিত প্রচেষ্টা একান্ত প্রয়োজন। এই চুক্তির প্রাথমিক শর্ত হলো দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তার তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষই এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সশস্ত্র পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার যে দৃঢ় সংকল্প বৈরুত দেখিয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। লেবাননের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে আউনের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে ওয়াশিংটন ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। আগামী মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট আউনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আউন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি নিষ্ক্রিয় করা এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাবনা পেশ করার পরিকল্পনা করছেন। আউন বিশ্বাস করেন যে, ইসরায়েলের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করার মতো একক প্রভাব কেবল ট্রাম্পেরই রয়েছে। এর আগে বৈরুত ত্যাগের প্রাক্কালে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সরে যাওয়া নিশ্চিত করতে মার্কিন ভূমিকা অপরিহার্য।
তবে লেবানন সরকারের এই পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ নয়। একদিকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ঘোর বিরোধী এবং নিজেদের সশস্ত্র অবস্থান ত্যাগ করতে নারাজ, অন্যদিকে ইসরায়েলও হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করবে না বলে অনড় অবস্থানে রয়েছে। গত মার্চ মাসে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে, যখন ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে লেবানন নতুন করে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মুখে পড়ে।
উল্লেখ্য, ৬২ বছর বয়সী জোসেফ আউন লেবাননের সামরিক বাহিনীর সাবেক কমান্ডার এবং গত বছর দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি রাষ্ট্রের একক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইরান ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে আউন বারবার বলেছেন যে, এই গোষ্ঠীটি লেবাননের জাতীয় স্বার্থ বা জনগণের জীবনের চেয়ে তেহরানের এজেন্ডাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা