সীমান্ত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে দুদিনের সফরে শুক্রবার উত্তরবঙ্গে আসছেন ভারতর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডর এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সুরক্ষা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, সীমান্ত পরিদর্শন শেষে উত্তরকন্যায় রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হবেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার বিকেলে শিলিগুড়িতে পৌঁছানোর পর সেখানে রাত্রিযাপন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরদিন শনিবার সকালে তিনি বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এই সময়ে তিনি সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বা বিএসএফ-এর মোতায়েন ব্যবস্থা, কাঁটাতারের বেড়ার অবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। অনুপ্রবেশ রোধ এবং চোরাচালান দমনে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কঠোর করাই এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।

সীমান্ত পরিদর্শন শেষে উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপ্রবেশ রোধ, আন্তঃরাজ্য সমন্বয় এবং কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। ইতিমধ্যে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা এই বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। একই সঙ্গে শুক্রবার শিলিগুড়িতে পৌঁছলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কলকাতায় বিভিন্ন সরকারি ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে তাঁর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে ভারতর কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। সম্প্রতি ভারতর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন সব জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন, যেখানে সীমান্ত এলাকার সুরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত এলাকায় ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

বিজ্ঞাপন

অমিত শাহ ইতিপূর্বে একাধিকবার দাবি করেছেন যে, দীর্ঘদিনের অনুপ্রবেশ সমস্যার কারণে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর জনবিন্যাসে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তাই জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে সীমান্তের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করার পক্ষপাতী তিনি। প্রশাসনিক মহলের মতে, শাহের এই সফর থেকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা আসতে পারে। বর্তমানে গোটা বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%