চীনে ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জনের প্রাণহানি ও লাখো মানুষের স্থানান্তর

চীনের গুয়াংজি অঞ্চলে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘মেসাক’-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নাননিং শহরে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সৃষ্ট আকস্মিক প্লাবনে হতাহতের এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় উপ-মেয়র ডিং ওয়েই। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে অঞ্চলটি থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্যমতে, গুয়াংজি অঞ্চলের কিছু অংশে ১০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ৯০ সেন্টিমিটারেরও বেশি রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। নাননিং শহরে বাঁধ ভাঙার ঘটনায় কেবল ২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে সেখানে ৮ হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী ও ৫ হাজার ৭০০টি নৌযান দিয়ে সমন্বিত তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মীরা তীব্র স্রোত ও ধ্বংসস্তূপের বাধা পেরিয়ে দুর্গতদের কাছে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। উপ-মেয়র ডিং ওয়েই জানিয়েছেন, বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও আগামী দুই দিনে পুনরায় বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ইতিমধ্যে হেনঝু শহরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রায় ৬০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
বন্যার কারণে গুয়াংজি প্রদেশের গুইগাং চিড়িয়াখানায়ও ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। পানির তোড়ে খাঁচা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জেব্রা, আলপাকা ও পিগমি শূকরসহ অন্তত ১০০টি প্রাণী পালিয়ে গেছে। স্থানীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি ব্যুরো জানিয়েছে, হারিয়ে যাওয়া প্রাণীদের তালিকায় র্যাকুন, সজারু ও ময়ূরও রয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, বন্যপ্রাণীগুলো আতঙ্কিত ও আক্রমণাত্মক হতে পারে বিধায় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা