ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়া ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানের ১০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের সরকারি চুক্তি লাভ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ী উপহার হিসেবে সাধারণ ক্ষমা পাওয়া রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী তহবিল সংগ্রহকারী ইলিয়ট ব্রয়ডির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান এবার মার্কিন ফেডারেল সরকারের বড় অঙ্কের কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগের অধীনে থাকা ব্যুরো অব প্রিজনসের সঙ্গে ১০ কোটি ৬০ লক্ষ ডলারের একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে ব্রয়ডির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘লিও টেকনোলজিস’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কারাগারের বন্দিদের টেলিফোন কথোপকথন অনুবাদ, প্রতিলিপি তৈরি এবং নজরদারি চালানোর লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলের শেষ দিনে ব্রয়ডিকে বিতর্কিত এক সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করেছিলেন। এর মাত্র তিন মাস আগে ব্রয়ডি ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রভাবিত করার জন্য অবৈধ লবিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই সময় চীনের ও মালয়েশিয়ার স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে গোপনে তদবির চালানোর অভিযোগে তিনি ফরেন এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লিও টেকনোলজিসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই বিশাল চুক্তি অর্জনের প্রতিযোগিতামূলক নিলাম প্রক্রিয়ায় ব্রয়ডির ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা ছিল না। প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, ব্রয়ডি কোম্পানির কৌশলগত দিক নির্ধারণ করলেও দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্বে নেই। এদিকে সরকারি নথিপত্রে দেখা যায়, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পেতে লিও টেকনোলজিসকে আরও ছয়টি কোম্পানির সঙ্গে কঠোর প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

ব্রয়ডির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বরাবরই বিতর্ক ও কেলেঙ্কারিতে আচ্ছন্ন। ২০০৯ সালে নিউইয়র্কের পেনশন ফান্ড থেকে সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রায় ১০ লক্ষ ডলার ঘুষ দেওয়ার অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এছাড়া ২০১৮ সালে এক প্লে-বয় মডেলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ১৬ লক্ষ ডলার অর্থ প্রদানের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তিনি রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির জাতীয় উপ-অর্থায়ন চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিজীবনে নানা বিতর্কের জন্ম দিলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে ব্রয়ডির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গলফ খেলার আয়োজন করতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আদালতে স্বীকার করেছিলেন। বর্তমান এই চুক্তি পাওয়ার মাধ্যমে বিতর্কিত এই ব্যবসায়ী ফেডারেল সরকারের সাথে সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন, যা নিয়ে ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

0%
0%
0%
0%