জেনোয়া সেতু বিপর্যয় আট বছর পর বিচারের রায়ের অপেক্ষায় ইতালি

ইতালির জেনোয়া শহরে ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট মোরান্দি সড়ক সেতু ধসে ৪৩ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন বিচারক। ইতালির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই অবকাঠামোগত বিপর্যয় দেশজুড়ে পুরনো স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল। আট বছর ধরে চলা দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

বিজ্ঞাপন

এক হাজার ১৮২ মিটার দীর্ঘ মোরান্দি সেতুটি ১৯৬৭ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল। নকশাকার রিকার্ডো মোরান্দির নামানুসারে নির্মিত এই সেতুকে একসময় ইতালির ‘ব্রুকলিন ব্রিজ’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। নব্বইয়ের দশকে এতে বড় ধরনের সংস্কার কাজ চললেও নতুন শতাব্দীর শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞরা সেতুটির কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, মুনাফা অর্জনের নেশায় গুরুত্বপূর্ণ সেই সংস্কার কাজগুলো কখনোই যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়নি।

২০১৮ সালের ওই দিনে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে সেতুর একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। প্রায় ৪৫ মিটার নিচে পড়ে যাওয়া ওই অংশে তখন প্রায় ৩০টি গাড়ি ছিল। জেনোয়া এবং ফ্রান্সের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ধসের ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে যে, দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে সামুদ্রিক লবণাক্ত ও আর্দ্র বাতাসে সেতুটির নবম স্তম্ভের ভেতরের ভারবহনকারী তারগুলো ক্ষয়ে গিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মামলায় ৫৯ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা, পরিবহন নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। কৌঁসুলিরা আটলান্টিয়া কোম্পানির তৎকালীন প্রধান নির্বাহী জিওভান্নি কাস্তেলুচ্চির জন্য ১৮ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছেন। তবে বিবাদী পক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, সেতুর নির্মাণগত ত্রুটি আগে থেকে শনাক্ত করা অসম্ভব ছিল।

বিজ্ঞাপন

ভিকটিম পরিবারের কমিটির প্রধান এগুলে পোসেত্তি, যিনি এই দুর্ঘটনায় তার বোন ও স্বজনদের হারিয়েছেন, তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে উপস্থিত থাকবেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কেবল কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং অবহেলা ও লোভের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ জন মানুষ। এদিকে, দুর্ঘটনার দুই বছর পর ২০২০ সালে সেই স্থানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘সান জর্জিও সেতু’ উদ্বোধন করা হলেও স্বজনহারা পরিবারগুলো সেই আয়োজনে অংশ নেয়নি। তাদের মতে, এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া কেবল ভুক্তভোগীদের জন্যই নয়, বরং ইতালির সকল নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%