আসল তৃণমূলের স্বীকৃতি পেল ঋতব্রত শিবির আইনি লড়াইয়ে কোণঠাসা কালীঘাট

তৃণমূল কংগ্রেসের মালিকানা, দলের প্রতীক ও তহবিল নিয়ে চলমান তীব্র আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় নিয়েছে। গত রবিবার দুপুরে আলিপুর আদালতের রায়কে হাতিয়ার করে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন অংশই প্রকৃত তৃণমূল। ২২ জুনের বিশেষ অধিবেশনে গঠিত জাতীয় কর্মসমিতিকে আদালত বৈধ স্বীকৃতি দেওয়ায় এখন কালীঘাট শিবিরের পায়ের তলার মাটি ক্রমশ আলগা হয়ে আসছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষয়ের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের সাধারণ কর্মীরা বিভ্রান্ত হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে অধিবেশনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন করা হয়েছে, সেই অংশই আইনত প্রকৃত তৃণমূল। আদালতের এই রায়কে পুঁজি করে ঋতব্রত এখন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাঁদের অনুমতি ছাড়া কেউ দলের নাম বা তহবিল ব্যবহার করতে পারবেন না।

আদালতের রায়ের প্রতিলিপি প্রদর্শন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, অবৈধভাবে দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো মগের মুলুক নয় এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই কমিটির বাইরে অন্য কোনো গোষ্ঠীর তৃণমূল হওয়ার দাবি আইনত অবৈধ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্য কেউ নিজেদের কমিটির সদস্য পরিচয় দিয়ে কার্যক্রম চালালে তাদের এই প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

এদিকে, এই রায় নিয়ে মোটেই বিচলিত নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির। তাদের দাবি, মেট্রোপলিটন কার্যালয় দখলের ঘটনায় ঋতব্রত শিবিরের লোকেরাই আইন ভেঙেছে। মমতা-পন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র উপাসনা চৌধুরী প্রশ্ন তুলেছেন, চুক্তির শর্ত অমান্য করে কার্যালয়ে তালা লাগানোর অধিকার তাঁদের কে দিয়েছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই দলের অস্তিত্ব টিকে আছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতের এই রায়কে সামনে রেখে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এখন নতুন করে রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা আইনজীবীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন। অন্যদিকে, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে কী ধরনের পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%