যৌন অসদাচরণের অভিযোগ: আইসিসি কৌঁসুলি করিম খানের ভাগ্য নির্ধারণে আজ গোপন ভোট

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের ভাগ্য নির্ধারণে আজ শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে রুদ্ধদ্বার ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যৌন অসদাচরণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সংস্থাটির ১২৫টি সদস্য দেশ গোপন ব্যালটে ভোট দেবে। গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধের তদন্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এই নাটকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন ৫৬ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ ব্যারিস্টার।
অভিযোগকারী এক নারী কর্মী দাবি করেছেন, কর্মক্ষেত্রে করিম খান তাঁর সাথে আপত্তিকর আচরণ করেছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে যৌন হয়রানি করেছেন। তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন করিম খান। তাঁর আইনজীবীরা সাফ জানিয়েছেন, অভিযুক্তের সাথে কোনো ধরনের যৌন সম্পর্কের কথা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। করিম খানের আইনি দলের দাবি, আইসিসির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও আইনবহির্ভূত।
এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিতে করিম খানকে বরখাস্ত করতে হলে আইসিসির ১২৫টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ৬৩টি দেশের সমর্থন প্রয়োজন। স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত তিনি অপসারিত হন, তবে নতুন কৌঁসুলি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা আগামী বছরের আগে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আইসিসির বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো বহাল থাকবে, কারণ পরোয়ানা প্রত্যাহারের আইনি এখতিয়ার কেবলমাত্র আদালতের বিচারকদের রয়েছে।
করিম খানের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়াটিকে ঘিরে ব্যাপক ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করার পর থেকেই তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র তোপের মুখে পড়েছেন। সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, এই আইনি লড়াই রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত, যার পেছনে আইসিসিকে দুর্বল করার সূক্ষ্ম পরিকল্পনা থাকতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পক্ষের রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগকে আইসিসির বৈশ্বিক তদন্তের সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। তাঁর মতে, এসব বিষয়কে একীভূত করে দেখার প্রবণতা মূলত মূল অভিযোগের বৈধতা নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। সব মিলিয়ে, আজকের এই ভোট শুধু একজন কৌঁসুলির ক্যারিয়ারই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকারী এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটির অখণ্ডতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা