গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলায় মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে, কর্মবিরতির শঙ্কায় স্বাস্থ্যসেবা খাত

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এই মরণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ছয়শ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ৭৫৯ জন রোগীর দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন।
ইতুরি প্রদেশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যকর্মীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, গত ১৫ মে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকেই তারা পারিশ্রমিক ও বোনাস থেকে বঞ্চিত। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব এবং কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মঘট ঘোষণা করা না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এদিকে কিষানগানি শহরে দু’জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তবে তাদের পরীক্ষার ফলাফল যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় থাকায় সরকারি হিসাবে এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইতুরির বুনিয়া শহরের মহামারি নজরদারি কমিটির সদস্য ডা. বিয়েন্সি কানো জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ন্যায্য পাওনার দাবি জানিয়ে আসছেন। অথচ সেই দাবির প্রতি কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জরুরি জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে ঘোষণার আগেই ভাইরাসটি মংবওয়ালু, রওয়ামপারা ও বুনিয়ার মতো খনি এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে বান্দিবুগিও নামক ভাইরাসের স্ট্রেইনটির বিরুদ্ধে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই স্ট্রেইনটি অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় কিছুটা কম প্রাণঘাতী হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। স্বাস্থ্যকর্মীদের এই আন্দোলন ও অস্থিরতা ইবোলা মোকাবিলার সামগ্রিক কার্যক্রমকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা