ইকুয়েডরের চোন কিলারস গ্যাংকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র

ইকুয়েডরের অপরাধী চক্র ‘চোন কিলারস’-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ল্যাটিন আমেরিকায় সংগঠিত অপরাধ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনটিকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবেও ঘোষণা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, এই অপরাধী চক্রটি সাধারণ নাগরিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর একের পর এক ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়া ও মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেলের মতো এই গোষ্ঠীগুলোকেও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে এই অঞ্চলে মাদকদ্রব্যের প্রবাহ বন্ধ এবং সন্ত্রাসী অর্থায়নের উৎসগুলো ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর ওয়াশিংটন। রুবিওর অভিযোগ, ইকুয়েডরের এই গ্যাংগুলো মেক্সিকোর মাদক কার্টেলগুলোকে অবৈধ মাদক পরিবহনে সহায়তা করছে, যা শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইকুয়েডরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নোবোয়ার সর্বাত্মক লড়াইয়ে ওয়াশিংটনের এই বলিষ্ঠ সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট নোবোয়া গ্যাং কর্মকাণ্ড নির্মূলে কয়েকটি প্রদেশে সামরিক অভিযান ও কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
