AdvertisementAdvertisement

এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের জোরালো ও কৌশলগত সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে সিরিজ বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি ত্বরান্বিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি বাস্তবায়নে বৈশ্বিক সংস্থাসমূহের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহুয়ার সঙ্গে আলাপকালে ড. তিতুমীর বাংলাদেশের উত্তরণ প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সুষ্ঠু ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতেই এই অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন। জবাবে লি জুনহুয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাতিসংঘের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সফল করতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এর আগে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের বা ইকোসকের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে এলডিসিভুক্ত ১৪টি দেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও নেপালসহ উত্তরণপ্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলোর জন্য এই বাড়তি সময় কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বাস্তবসম্মত কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা। তিনি জানান, ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রস্তুতিকাল বর্ধিত করা হলে তা কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।

ড. তিতুমীর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি ক্রমবর্ধমান ঋণঝুঁকি মোকাবিলায় স্বল্প সুদে ঋণসহ অনুকূল অর্থায়ন বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়া, সুরক্ষাবাদী বাণিজ্য নীতি পরিহার করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার অবারিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইউএন-এসক্যাপের নির্বাহী সচিব আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং ইউএনডিপির আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইগ্নারাজার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি দোহা কর্মসূচির আলোকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘের আরও কার্যকর বিনিয়োগ ও নীতি সহায়তা কামনা করেন।

0%
0%
0%
0%