AdvertisementAdvertisement

ন্যাশনাল ব্যাংক ছেড়ে এবি ব্যাংকে আদিল চৌধুরী সঙ্গে যাচ্ছেন ৩০ কর্মকর্তা

আর্থিক খাতের চরম অস্থিরতার মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় পদত্যাগ করেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদিল চৌধুরী। তিন বছরের চুক্তিতে যোগ দিলেও মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন সংকটাপন্ন এবি ব্যাংকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আদিল চৌধুরীর সাথে ন্যাশনাল ব্যাংকে তাঁর সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আনা প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তাও এবি ব্যাংকে পাড়ি জমাচ্ছেন, যাঁদের ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে।

গত ২৭ জুলাই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া আদিল চৌধুরীর এই দায়িত্ব ছাড়ার প্রক্রিয়া আজ শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। তাঁর আকস্মিক প্রস্থান ও দলবলসহ অন্য ব্যাংকে চলে যাওয়ার বিষয়টি ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এর আগে ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম খানও মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই পদত্যাগ করে অন্য ব্যাংকে যোগ দিয়েছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক বর্তমানে মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ ও আর্মানা গ্রুপের প্রতিনিধিরা পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ও ধারাবাহিক লোকসানের দুষ্টচক্র থেকে ব্যাংকটি বেরিয়ে আসতে পারছে না। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ব্যাংকটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯৯২ কোটি টাকা।

ব্যাংকটির আর্থিক নথিপত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ঋণের সুদ থেকে আয় কমে হয়েছে ৩০২ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, আমানতকারীদের সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। বিনিয়োগ থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি পরিচালনা ব্যয় সামাল দিতেও হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ট্রেজারি বন্ড থেকে আয় না হওয়া এবং পুনঃ তফসিল করা ঋণের কিস্তি আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ন্যাশনাল ব্যাংকের বর্তমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬.৪৪ শতাংশ। এ বিশাল অংকের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যমান এই সংকট মোকাবিলায় ব্যাংকটি তাদের নির্মাণাধীন ‘টুইন টাওয়ার’ প্রকল্পের একটি ভবন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন পেয়েছে। এই ভাড়া থেকে আসা আয় সংকট নিরসনে কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে আশা করছেন ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা।

ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন জানিয়েছেন, ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য তারা নিরলস কাজ করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুত এমন একজন দক্ষ এমডি নিয়োগ দেওয়া হবে, যিনি ব্যাংকের গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধার ও খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, কেবল নতুন নেতৃত্বই নয়, বরং শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য আপসহীন উদ্যোগই এখন প্রতিষ্ঠানটির টিকে থাকার একমাত্র পথ।

0%
0%
0%
0%