AdvertisementAdvertisement

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এন্ডির বার্নহামের দশ বছর মেয়াদী অর্থনৈতিক রূপকল্প ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নাম তার প্রথম বড় নীতি নির্ধারণী ভাষণে ১০ বছর মেয়াদী এক উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপরেখা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর মানচেস্টারের একটি জাদুঘরে সোমবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কার্যত দেশটির হাল ধরার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ এক দশক ওয়েস্টমিনিস্টারের রাজনীতির বাইরে থাকার পর পুনরায় পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বার্নামই এখন পর্যন্ত স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী। অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি নাগাদ তিনি সরকার গঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। জনসমর্থন তলানিতে নেমে যাওয়ায় কিয়ার স্টারমার তার বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গ্রেটার মানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা উত্তরের রাজা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বার্নাম তার রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে রেখেছেন স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণকে। তিনি তার বক্তব্যে পুনর শিল্পায়ন, আবাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ইউটিলিটি খাতের সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের কথা তুলে ধরবেন। শ্রম দলের উপনেতা লুসি পাওয়েল বিবিসিকে জানিয়েছেন, বার্নাম চান ব্রিটেনের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ যেন তাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের চাবিকাঠি হাতে পায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ব্যবসাবান্ধব সমাজতান্ত্রিক হিসেবে পরিচিত বার্নাম বিদ্যমান সরকারি ঋণের সীমা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাজারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি তার এই নতুন অর্থনৈতিক দর্শনকে ‘মানচেস্টারিজম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা মূলত ট্রিকল-ডাউন অর্থনীতি এবং নব্য উদারবাদের বিপরীতমুখী। সরকারি কর্মকাণ্ডের কিছু অংশ মানচেস্টারে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবহন, পানি ও জ্বালানি খাতের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পক্ষে তিনি জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।

আগামীতে ক্ষমতায় বসলে গত দশ বছরে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বার্নাম। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার ফলে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সামলানো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অত্যন্ত উদারপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং উত্তর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাই অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি কাকে বেছে নেন, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিনিয়োগকারীরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%