যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা সোমালিয়া থেকে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত বিশাল অংকের জালিয়াতি মামলার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন আবদিকারিম আবদেলাহি ইদলেহকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ক্ষুধার্ত শিশুদের খাদ্য সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত ৪২ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে গত বৃহস্পতিবার হেফাজতে নেওয়া হয়। এফবিআই এবং সোমালিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার যৌথ অভিযানে এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

বিচার বিভাগীয় নথিপত্রে ইদলেহকে ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ নামের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি চক্রের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মূল হোতা এইমি বক ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৪০ বছরের বেশি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২২ সালে উদ্ঘাটিত প্রায় ২৫ কোটি ডলারের এই জালিয়াতির ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অতিমারি-কালীন ত্রাণ তহবিলের সবচেয়ে বড় দুর্নীতির নজির হিসেবে বিবেচিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আগেই ইদলেহ পালিয়ে সোমালিয়ায় আশ্রয় নেন। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ভূয়া পরামর্শক ফি এবং শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঘুষ ও অবৈধ কমিশন হাতিয়ে নিতেন। এছাড়া, হাজার হাজার শিশুকে খাবার দেওয়ার মিথ্যা তথ্য প্রদর্শন করে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। মিনেসোটার মার্কিন অ্যাটর্নি ড্যানিয়েল রোজেন এই গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে, এই জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সোমালি সম্প্রদায়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। মিনেসোটার মিনেপোলিস-সেন্ট পল এলাকায় প্রায় ৮৪ হাজার সোমালি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিবাসন নীতি কঠোর করেছে এবং সোমালিদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকিও দিয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে মিনেপোলিসে আইসিই এজেন্টদের অভিযানে দুজন নিহতের ঘটনায় সেখানে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি, সোমালিদের দেওয়া ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা সাময়িক সুরক্ষার সুবিধা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। প্রায় ১ হাজার ১০০ সোমালির ওপর প্রভাব ফেলা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি কেন্দ্রীয় আদালত গত মার্চ মাসে স্থগিতাদেশ প্রদান করে। বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%