নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

সিলেটের বিমানবন্দর সংলগ্ন গ্রান্ড সিলেট হোটেলের হলরুমে আয়োজিত ‘নদী মেলা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, নদী বাঁচলে তবেই টিকে থাকবে এ দেশের জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতি। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, নাব্যতা সংকট, নদীদূষণ এবং অবৈধ দখলের কারণে দেশের নদীগুলো বর্তমানে চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ‘নদীর জন্য মানুষ, মানুষের জন্য নদী’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ বা সিএনআরএস-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নদী রক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে নদী পুনঃখনন, তীর সংরক্ষণ, পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তবে শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগে নদী রক্ষা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নদী সংরক্ষণে স্থানীয় জনসাধারণ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এই মেলা নদী বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনে একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএনআরএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিম হোসেন আদর, অক্সফাম নেদারল্যান্ডসের প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট লিড ভেরোনিকা বারকো জোরামস ও পলিসি লিড পেত্রিকেলা ইয়োহানা ফ্রান্সিস্কা মারিয়া। এছাড়াও অক্সফাম নেপালের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাজন সুবেদি, ঢাকা স্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার ড. মো. সিবলী সাদিক, রিসার্চ অ্যাডভাইজার সংঘা শ্রেষ্ঠা এবং অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল-এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজার এনামুল মজিদ খান সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর মানুষেরা অংশ নেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ‘দ্য পিপলস রিভারস্কেপ’ প্রকল্পের আওতায় পিয়াইন, সারি ও ধলাই নদীর অববাহিকায় অংশগ্রহণমূলক নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা প্রণয়ন করাই এই মেলার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং নদীকেন্দ্রিক সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।