অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন

আসন্ন অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং অক্টোবরের প্রথম দিকে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ইউপি, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা চলতি মাসের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য হলো একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর তালিকা জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রণালয় যৌথভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন আগেই নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যার প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে ভোট আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণের পূর্ণ প্রস্তুতি কমিশনের রয়েছে। নির্বাচনের আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করা হবে। সীমানা নির্ধারণের জটিলতা নিরসনে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অপর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও সংঘাতের নজির থাকায় প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হবে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনিক সমন্বয় ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য।