রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার দাবি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসামের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় নিউসাম দাবি করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার চিন্তাভাবনা করার কারণেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন বিচার বিভাগ এই তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ভিডিও বার্তায় ডেমোক্রেটিক দলীয় এই নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউসাম এখন ট্রাম্পের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন। নিউসামের দাবি, কোনো অপরাধ খুঁজে পাওয়ার জন্য নয়, বরং অপরাধ তৈরির উদ্দেশ্যে ফেডারেল তদন্তকারীরা তাঁর বন্ধু এবং সাবেক কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তাঁর স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউসাম একটি অলাভজনক নারী অধিকার সংস্থায় কর্মরত, তাঁকেও তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গ্যাভিন নিউসাম ট্রাম্পকে ‘মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমান বিচার বিভাগীয় প্রধান টড ব্ল্যাঞ্চের অধীনে গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প নিয়মিতভাবেই তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমিকেও আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।
ট্রাম্প এবং নিউসামের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা বিদ্যমান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিউসামকে নিয়ে কটূক্তি করে আসছেন এবং এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্কের সময় তাঁকে গ্রেপ্তারেরও হুমকি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, নিউসামও পাল্টা আক্রমণ করতে পিছপা হননি। গত রবিবার ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে জনসমক্ষে তাঁর ঘুমানোর একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে নিউসাম ব্যঙ্গাত্মক সুরে মন্তব্য করেন যে, ‘৮০ বছর এখন ১০০ বছরের সমান।’
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে নিউসামের বর্তমান মেয়াদের অবসান ঘটবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে। কোনো অপরাধের প্রমাণ ছাড়াই এই তদন্তকে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন যে, তাঁদের দম্পতির লুকানোর মতো কিছুই নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এই তদন্ত নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা