AdvertisementAdvertisement

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ নিহতের সংখ্যা ১৪ লাখের মাইলফলক স্পর্শ করেছে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা স্থবির

ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১৪ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতায় রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট ২০ শতাংশ এলাকা দখলের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা পূরণ করতে তাদের আরও ৫ হাজার ১৫০ দিন বা ১৪ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রাশিয়ার ভূখণ্ড দখলের গতি নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং দেশটিতে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

আইএসডব্লিউ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে রাশিয়া ২ হাজার ১৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে সক্ষম হলেও এ বছর তা মাত্র ৬২২ বর্গকিলোমিটারের নিচে নেমে এসেছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ এবং রাশিয়ার লজিস্টিক সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পুতিন যদি আরও লাখ লাখ সেনাকে এই যুদ্ধের আগুনে ঠেলে দিতে চান, তবে রুশ জনগণের এখনই ভাবা উচিত তাদের জন্য কী ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধু জুন মাসেই রাশিয়া ৩৯ হাজার ৪৯০ জন সেনা হারিয়েছে, যা তাদের মাসিক নিয়োগ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। জেলেনস্কি তার দেশের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কৌশলগত সিদ্ধান্তকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন। এই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও গোলাবারুদ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে, যাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ ‘লজিস্টিক্যাল লকডাউন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও সামরিক ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা প্রকট হয়ে উঠেছে। জুন মাসে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং দেশটির তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রপ্তানি আয় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি আছে বলে দাবি করলেও, ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে মস্কোকে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।

ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার উফা, নিজনিগোরদস্কি, স্লাভিয়ানস্ক ও ইয়ারোস্লাভল তেল শোধনাগারের পাশাপাশি ক্রিমিয়ার সাখি সামরিক বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুতিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গত বছর আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর দোনেৎস্ক অঞ্চল ইউক্রেনের হস্তান্তরের প্রস্তাব উঠেছিল, যা জেলেনস্কি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। বর্তমানে পরিবর্তিত সামরিক পরিস্থিতিতে রাশিয়া নতুন করে মধ্যস্থতার ইঙ্গিত দিলেও, ইউক্রেন তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই যুদ্ধের চূড়ান্ত ফয়সালা করতে বদ্ধপরিকর।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%