রিপাবলিকানদের সুবিধার্থে লুইজিয়ানার নতুন নির্বাচনী মানচিত্র পাস

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে নতুন নির্বাচনী মানচিত্র অনুমোদন করা হয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে রিপাবলিকানদের অনুকূলে ঢেলে সাজানোর পথ প্রশস্ত করেছে। গত শুক্রবার লুইজিয়ানা আইনসভায় পাস হওয়া এই নতুন মানচিত্রটি থেকে সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠতানির্ভর একটি নির্বাচনী আসন বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাবাধীন এলাকাগুলো থেকে প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই নতুন মানচিত্রের অনুমোদন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের গত এপ্রিল মাসের একটি বিতর্কিত রায়ের ধারাবাহিকতায় এল। উচ্চ আদালত লুইজিয়ানার তৎকালীন মানচিত্রকে ‘বেআইনি জাতিগত কারসাজি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দিয়েছিল, কারণ সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি পৃথক আসন রাখা হয়েছিল। সেই রায়ের পর থেকেই লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির নেতৃত্বে নতুন মানচিত্র তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা ১৯৬৫ সালের ভোটিং রাইটস অ্যাক্টকে কার্যত দুর্বল করে দিয়েছে বলে মতপ্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।
২৮-১০ ভোটে লুইজিয়ানা স্টেট সিনেটে এই বিল পাস হওয়ার পর এখন কেবল গভর্নরের স্বাক্ষর পাওয়া বাকি। রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা দাবি করেছেন, এই মানচিত্র তৈরির পেছনে কোনো জাতিগত বিদ্বেষ নেই, বরং এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। সিনেটর জে মরিস যুক্তি দিয়েছেন যে, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের নির্দিষ্ট একটি আসনে কেন্দ্রীভূত করে বাকি আসনগুলোতে রিপাবলিকানদের জয় নিশ্চিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক দলের আইন প্রণেতারা এই নতুন মানচিত্রকে বর্ণবাদী কারসাজি বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রয়স ডুপ্লেসিস সতর্ক করে বলেছেন, লুইজিয়ানা একটি বিপজ্জনক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে, যা ন্যায়বিচারকে পদদলিত করছে। এদিকে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউ লুইজিয়ানা শাখা ইতিমধ্যে নতুন এই মানচিত্রের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুমকি দিয়েছে। তাদের মতে, এটি দলীয় পরিচয়ের আড়ালে সুপরিকল্পিত এক জাতিগত বৈষম্য।
বর্তমানে লুইজিয়ানার ছয়টি কংগ্রেসনাল আসনের মধ্যে চারটি রিপাবলিকানদের দখলে থাকলেও নতুন মানচিত্রটি কার্যকর হলে দলটি আরও একটি আসন নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। গভর্নর ল্যান্ড্রি ইতিমধ্যে প্রাথমিক নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করে ৩ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন যাতে এই নতুন সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। বিশ্লেষকদের মতে, পুরো বিষয়টি নিয়ে আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা