দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্তে সিআরপিএফ

পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী বা সিআরপিএফ। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আধাসামরিক বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। সূত্রের খবর, আগামী সাত দিনের মধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তকারী দলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফের যে সদস্যদের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে, কোথায় এবং কেন এই বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই ঘটনায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতাভুক্ত। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দিল্লির পুলিশ প্রশাসন শুরুতে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করলেও, ২৮ বছর বয়সি এক আন্দোলনকারীর শরীরে প্রায় ৩০টি পেলেটের আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
সাফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতেও ওই ব্যক্তির শরীরে পেলেটের আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, পেলেট গান শুধুমাত্র কোমরের নিচের অংশে ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও, ভুক্তভোগীর পিঠ ও কনুইয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এদিকে ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনাকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর ‘বর্বর আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।
সংসদের ভেতরে ও বাইরে এ নিয়ে বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গেসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারা সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন। এখন সিআরপিএফের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যা ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মপদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের উদ্রেক করবে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস