গ্রামের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ৬ বছর ধরে আটকে থাকা নির্মাণকাজ: বৃষ্টিতে ভিজে গাছতলায় চলছে পাঠদান

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার খাড়াতাইয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ স্থানীয়দের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আইনি জটিলতায় ছয় বছর ধরে থমকে আছে। ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নির্মাণকাজ শুরু করতে না পারায় বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে পাঠদান। এতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন প্রায় একশ শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ৩৫ থেকে ৪০ ফুট লম্বা ও ১২ থেকে ১৫ ফুট চওড়া একটি একচালা টিনশেড ঘরে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি স্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। জরাজীর্ণ এই ভবনের ছাদ ফুটো হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। বৃষ্টি নামলে শিক্ষার্থীদের ছাতা মাথায় নিয়েই ক্লাসে বসতে হচ্ছে, যা পাঠদানের পরিবেশকে পুরোপুরি ব্যাহত করছে।
তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের কষ্ট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক পাখা ও প্রয়োজনীয় মালামাল চুরি হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। বেড়া ভাঙা থাকার সুযোগে বারবার চুরির ঘটনা ঘটায় বিদ্যালয়ের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থার কারণে গত এক বছরে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তার জানান, গ্রামবাসীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ আটকে আছে। বৃষ্টিতে বই-খাতা ভিজে যাওয়া এবং নিয়মিত চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।
এ ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা দ্রুত বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।