অভিবাসনপ্রত্যাশীকে পালাতে সহায়তার দায়ে সাবেক মার্কিন বিচারক হান্না ডুগানকে ৫০০০ ডলার জরিমানা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের প্রাক্তন সার্কিট কোর্ট বিচারক হানা ডুগানকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার দায়ে ৫ হাজার ডলার জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ লিন অ্যাডেলম্যান এই রায় ঘোষণা করেন। অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের হাত থেকে এক ব্যক্তিকে আড়াল করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেও, বিচারক তার দীর্ঘদিনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও জীবনের স্বচ্ছতাকে বিবেচনায় নিয়ে তাকে কোনো কারাদণ্ড দেননি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মিলওয়াকি কাউন্টি আদালতে। এডুয়ার্ডো ফ্লোরেস-রুইজ নামের এক মেক্সিকান নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা ব্যাটারি মামলার শুনানির সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালতে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, হানা ডুগান তখন কর্মকর্তাদের প্রধান বিচারকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে তাদের ওয়ারেন্ট পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেন এবং এর ফাঁকে গোপন পথ দিয়ে ফ্লোরেস-রুইজকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ধাওয়ার মুখে ফ্লোরেস-রুইজ আদালতের বাইরেই গ্রেপ্তার হন এবং এক সপ্তাহ পর ডুগানকে গ্রেপ্তার করে এফবিআই।
আদালতে দেওয়া বিবৃতিতে ৬৭ বছর বয়সী ডুগান দাবি করেন, তিনি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কাজ করেননি, বরং আদালতের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি নিজেকে কোনো বীর বা আইন অমান্যকারী নয়, বরং একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারী হিসেবে উল্লেখ করেন। মামলার রায়ে বিচারক অ্যাডেলম্যান মন্তব্য করেন যে, ডুগানের দীর্ঘ কর্মজীবনের তুলনায় এই ঘটনাটি খুবই ক্ষণস্থায়ী এবং বিচ্ছিন্ন একটি ভুল সিদ্ধান্ত। বিচারক আরও উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে ডুগান তার চাকরি হারিয়েছেন এবং ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধীর তকমা নিয়ে সমাজে নিগৃহীত হয়েছেন, যা যথেষ্ট শাস্তিস্বরূপ।
ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই রায়ের সমালোচনা করে দাবি করেছিলেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে ডুগানের ১৫ থেকে ২১ মাস কারাদণ্ড হওয়া উচিত ছিল। তারা যুক্তি দিয়েছিলেন, বিচার বিভাগীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়াটা বিচার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এদিকে, ডুগানের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে বিচারকদের দমানোর কৌশল হিসেবে তাদের মক্কেলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ঘটনাটি গত ডিসেম্বরে ফেডারেল জুরি কর্তৃক সরকারি কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ডুগানকে দোষী সাব্যস্ত করার পর থেকেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলসহ অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডুগানের গ্রেপ্তারের পর জনসমক্ষে তার সমালোচনা করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত বিচারে ডুগান কারাদণ্ডের হাত থেকে রেহাই পেলেও, এই ঘটনা মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় অভিবাসন নীতি ও বিচারিক স্বাধীনতার দ্বন্দ্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা