শেষ ষোলোর পথে টরন্টোয় মুখোমুখি জার্মানি ও আইভরি কোস্ট

টরন্টোর মাঠে শনিবার সন্ধ্যা আটটায় ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-এর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং আইভরি কোস্ট। নকআউট পর্ব তথা শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা দুই দলের এই দ্বৈরথটি এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে দল দুটিকে। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে সাত-এক গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছে জার্মানি। অন্যদিকে, ইকুয়েডরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে এক-শূন্য ব্যবধানে জয় পেয়েছে আইভরি কোস্ট।
জার্মানি তাদের প্রথম ম্যাচে জামাল মুসিয়ালা এবং ফ্লোরিয়ান ভির্টজদের জাদুকরী পারফরম্যান্সে দাপট দেখালেও রক্ষণভাগ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়ে গেছে। ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার এবং রক্ষণভাগের জোনাথান তাহ ও নিকো শ্লটারবেকের ওপর বড় দায়িত্ব থাকবে আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগকে সামলানোর। আর্সেনালের কাই হাভার্টজ প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করে ফর্মে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা কোচ জুলিয়ান নাগলসম্যানের জন্য স্বস্তির খবর। টানা দশ ম্যাচ জেতা জার্মানি এবার লক্ষ্য স্থির করেছে গ্রুপ সেরা হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার।
আইভরি কোস্টের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। ইকুয়েডরের উনিশ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা তাদের রয়েছে। শেষ মুহূর্তে আমাদ দিয়ালোর গোলটি দলের জয়ের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। কোচ এমার্স ফায়ে তাদের একাদশে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার দিয়ালো শুরুর একাদশে থাকার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাছাড়া ইলি ওয়াহি, অঁজে-ইয়োয়ান বনি এবং ইয়ান দিওমান্দের মতো তরুণ তুর্কিদের ওপর ভরসা রাখছে আফ্রিকান জায়ান্টরা।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস খুব একটা দীর্ঘ নয়। ২০০৯ সালের এক প্রীতি ম্যাচে তারা দুই-দুই গোলে ড্র করেছিল, যেখানে লুকাস পোডলস্কি জোড়া গোল করেছিলেন। বর্তমান পারফরম্যান্সের বিচারে জার্মানি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আইভরি কোস্ট তাদের লড়াকু মানসিকতা দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। জার্মানি যদি এই ম্যাচ জিততে পারে, তবে নকআউট পর্বে তাদের জায়গা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে, আইভরি কোস্টের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নকআউট পর্বে পা রাখা।
টানা সাত ম্যাচে গোল হজম করা জার্মানির রক্ষণভাগকে নিয়ে চিন্তিত ফুটবল বোদ্ধারা। ২০১৪ সালের ফাইনালের পর বিশ্বকাপে তারা আর ক্লিনশিট রাখতে পারেনি। তবে আক্রমণে ডেনিয উনদাভ এবং মুসিয়ালাদের ফর্ম যে কোনো রক্ষণভাগকে তছনছ করার জন্য যথেষ্ট। গ্রুপ ‘ই’-এর সমীকরণ এখন বেশ জটিল। শেষ পর্যন্ত জার্মানি, আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডরের মধ্যে পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে গোল ব্যবধান বড় ভূমিকা রাখবে। টরন্টোর এই ম্যাচটি কেবল একটি জয়ের লড়াই নয়, বরং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকার অগ্নিপরীক্ষা।