আগস্টেই নতুন পে স্কেলের গেজেট কার্যকরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর সুপারিশ পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা কমিটি চলতি মাসের মধ্যেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এরপরই বিষয়টি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগস্ট মাসে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও এর আর্থিক কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামো একবারে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, তা চূড়ান্ত করবে মন্ত্রিসভা। গত ২২ জানুয়ারি সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, তাতে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছিল। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটি এখন বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করছে। কমিটির নথিপত্র অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ এবং উচ্চতর গ্রেডে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনাও রয়েছে। বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাবসহ পেনশন ও অবসর-সুবিধার কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবশেষে সচিব কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতির ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ করা হবে। ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছর পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বেতনকাঠামো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।